ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৩ ৩:২৭ অপরাহ্ণ || শতাব্দীর দৃষ্টিকোণ
জাতীয় শিরোনাম

হাইকোর্ট নির্দেশ দিলে আল জাজিরার সম্প্রচার বন্ধ হবে : তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘আমরা গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। তবে হাইকোর্ট যদি আল জাজিরা বন্ধে নির্দেশ দেয়, তবে আদালতের নির্দেশনা আমাদের মানতে হবে। সেক্ষেত্রে আল জাজিরার সম্প্রচার বন্ধ করা হবে।’

শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় তথ্যমন্ত্রী চট্টগ্রাম নগরের বাসায় সমসাময়িক বিষয় নিয়ে ব্রিফিং করেন। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল- ‘হাইকোর্ট তথ্য মন্ত্রণালয়কে আল জাজিরার প্রতিবেদন ইউটিউব এবং ফেসবুকসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে বাদ দেয়ার জন্য বলেছিলেন, কিন্তু আপনারা এটি বাদ দিচ্ছেন না কেন?’ এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা চাইলে আল জাজিরার সম্প্রচার আমাদের দেশে বন্ধ করতে পারতাম। অনেক দেশে বন্ধ করা হয়েছে এবং বন্ধ রয়েছে। এমনকি ভারতেও কিছুদিনের জন্য বন্ধ ছিল। এখনও ৬-৭টি দেশে আলজাজিরার সম্প্রচার বন্ধ আছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার যেহেতু গণমাধ্যমের অবাধ স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে, এজন্য আমরা সেই উদ্যোগ (বন্ধের সিদ্ধান্ত) নেইনি।’

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘স্বাধীনতার যেমন দরকার, দায়িত্বশীলতারও প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতা মানে এই নয় যে ভুল, মিথ্যা, পক্ষপাতদুষ্ট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, অপরের স্বাধীনতা হরণ করে এমন সংবাদ পরিবেশন করা হবে। এটা কোনোভাবেই সমীচীন নয়। আল জাজিরার রিপোর্ট একটি মিথ্যা বানোয়াট। কিছু কাট-পেস্ট করে রিপোর্টটি প্রকাশ করা হয়েছে। এটি ব্যক্তিগত আক্রোশের বশঃবর্তী হয়ে রিপোর্টটি প্রকাশ করা হয়েছে।’

জিয়াউর রহমানের খেতাব প্রত্যাহার প্রসঙ্গে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় জিয়াউর রহমানের ভূমিকা আসলে কি ছিল সেটি নিয়ে নানা প্রশ্ন আছে। মুক্তিযোদ্ধার ছদ্মাবরণে তিনি প্রকৃতপক্ষে পাকিস্তানের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছিলেন। তার খেতাব বাতিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তো হয়নি এখনও। এটা নিয়ে জামুকাতে আলোচনা হয়েছে মাত্র।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি তো বিরোধী দল, তারা বিক্ষোভ করতেই পারে। কিন্তু চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনসহ অন্যান্য যে সমস্ত ইস্যুতে তারা বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছেন, তা হাস্যকর।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশ কিংবা পার্শ্ববর্তী দেশে যে ধরণের স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়, সেই নিরিখে চট্টগ্রাম সিটিতে একটা ভাল নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও কার্যত মাঠে ছিল না। ভোটের দিন তাদের কাউকে দেখা যায়নি।’

তথ্যমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মতো একটা গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে বিএনপির মহাসচিব কি চট্টগ্রাম এসেছিলেন? তিনি কি নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছিলেন? একটা মিটিং করেছেন? অথচ তাদেরতো প্রচারণা চালাতে কোনো অসুবিধা ছিল না।’

Similar Posts

error: Content is protected !!