ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৩ ৩:১৫ অপরাহ্ণ || শতাব্দীর দৃষ্টিকোণ
জাতীয় শিরোনাম

কবরী আর নেই

‘মিষ্টি মেয়ে’ খ্যাত নায়িকা সারাহ বেগম কবরী আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৩ দিনের মাথায় তিনি পরপারে পাড়ি জমালেন।

শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটে রাজধানীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন কবরী।

তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। এ অভিনেত্রীর মৃত্যুতে শোক নেমেছে চলচ্চিত্রাঙ্গনে। কোভিড পরীক্ষার পর গত ৫ এপ্রিল দুপুরে জানা যায় কবরী করোনা আক্রান্ত। এরপর সেদিন রাতেই কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে।

পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে নিয়ে আসা হয় রাজধানীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে। সেখানে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন এ নায়িকা।

জানা গেছে, কবরী কিডনির জটিলতার পাশাপাশি অন্য শারীরিক জটিলতাতেও ভুগছিলেন।

১৯৬৪ সালে ‘সুতরাং’ দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় সারাহ বেগম কবরীর। দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের সবার প্রিয়মুখ কবরী অভিনয়ের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি ছবির প্রযোজনা ও পরিচালনাও করেন।

জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী নারায়ণগঞ্জ থেকে সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হয়েছিলেন।

মাত্র ১৪ বছরেই নায়িকা

১৯৫০ সালের ১৯ জুলাই চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে জন্মগ্রহণ করেন কবরী। তার আসল নাম ছিল মিনা পাল। বাবা শ্রীকৃষ্ণদাস পাল এবং মা লাবণ্য প্রভা পাল। বেড়ে উঠেছেন সংস্কৃতির চর্চাকে সঙ্গী করে।

১৯৬৩ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে নৃত্যশিল্পী হিসেবে মঞ্চে উঠেছিলেন কবরী। তারপর টেলিভিশন ও সবশেষে আসেন সিনেমায়।

কবরী ১৯৬৪ সালে সুভাষ দত্তের ‘সুতরাং’ দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষিক্ত হন মাত্র ১৪ বছরে। ১৯৬৫ সালে অভিনয় করেন ‘জলছবি’ ও ‘বাহানা’য়, ১৯৬৮ সালে ‘সাত ভাই চম্পা’, ‘আবির্ভাব’, ‘বাঁশরি’, ‘যে আগুনে পুড়ি’। ১৯৭০ সালে উপহার দেন ‘দীপ নেভে নাই’, ‘দর্পচূর্ণ, ‘ক খ গ ঘ ঙ’, ‘বিনিময়’ ছবিগুলো।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি চলে যান তিনি। সেখান থেকে পাড়ি জমান ভারতে। কলকাতায় গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত সৃষ্টি করতে বিভিন্ন সভা-সমিতি ও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন কবরী।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আবারও চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন কবরী। শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। ১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটক পরিচালিত ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ সেসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। নায়ক রাজ্জাকের সঙ্গে ‘রংবাজ’ পায় বেশ জনপ্রিয়তা।

নায়ক ফারুকের সঙ্গে তার ‘সারেং বউ’ ও ‘সুজন সখী’ সিনেমা দুটি কালজয়ী হয়ে আছে৷ ‘সুজন সখী’ সিনেমাটি ব্যবসায়িক দিক থেকে ঢাকাই সিনেমার ইতিহাসে মাইলফলক।

এছাড়া কবরী পার্বতী চরিত্রে দর্শক মাতিয়েছেন বুলবুল আহমেদের সঙ্গে ‘দেবদাস’ সিনেমায়। তিনি নায়িকা হয়েছেন সোহেল রানা, উজ্জ্বল, আলমগীর, জাফর ইকবালের বিপরীতেও।

অভিনয়ের পাশাপাশি ছিলেন একজন পরিচালক ও প্রযোজক। ২০০৫ সালে ‘আয়না’ নামের একটি ছবি নির্মাণের মাধ্যমে চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন কবরী। ওই ছবির একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে তিনি অভিনয়ও করেছিলেন। সর্বশেষ শুরু করেছিলেন সরকারি অনুদানের একটি সিনেমার নির্মাণকাজ। কিন্তু শেষ করে যেতে পারলেন না।

কবরীকে ২০১৫ সালে চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদানের জন্য আজীবন সম্মাননা জানায় বাংলাদেশ সরকার।

কবরী যুক্ত ছিলেন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও। ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। যুক্ত হয়েছেন অসংখ্য নারী অধিকার ও সমাজসেবামূলক সংগঠনের সঙ্গে।

অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৭-তে প্রকাশিত হয়েছে তার আত্মজীবনীমূলক বই ‘স্মৃতিটুকু থাক’।

ব্যক্তিজীবনে কবরী বিয়ে করেন চিত্ত চৌধুরীকে। সে দাম্পত্যজীবন ভেঙ্গে যায়। পরে ১৯৭৮ সালে তিনি বিয়ে করেন সফিউদ্দীন সরোয়ারকে। ২০০৮ সালে তাদেরও বিচ্ছেদ হয়ে যায়। কবরী ছিলেন পাঁচ সন্তানের জননী।

প্রধানমন্ত্রীর শোক

কবরীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এদেশের চলচ্চিত্রে কবরী এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনীতি ও সংস্কৃতি অঙ্গনে তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

Similar Posts

error: Content is protected !!