জানুয়ারি ২৮, ২০২৩ ৭:৪১ অপরাহ্ণ || শতাব্দীর দৃষ্টিকোণ
রাজনীতি শিরোনাম

বিএনপির টপ-টু-বটম পদত্যাগ করা উচিত: কাদের

আন্দোলন ও নির্বাচনে ব্যর্থতার দায়ে বিএনপির টপ-টু-বটম পদত্যাগ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতাদের চরম ব্যর্থতায় কর্মীরা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছে। কখনো ঈদের পর, কখনো বর্ষার পর, আবার কখনো এসএসসি পরীক্ষার পর তাদের আন্দোলন হবে। কত ঈদ গেল, পরীক্ষা গেল, বর্ষা গেল কিন্তু বিএনপির আন্দোলনের মরা গাঙে জোয়ার আসে না। তাদের আন্দোলন মুখে-মুখে প্রেস বিফিংয়ে আর ফেইসবুক স্ট্যাটাসে সীমাবদ্ধ। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যর্থ বিরোধী দল বিএনপি। সরকার নয় ব্যর্থতার দায় নিয়ে বিএনপির নেতাদের টপ-টু-বটম পদত্যাগ করা উচিত।’

ওবায়দুল কাদের বৃহস্পতিবার সংসদ ভবন এলাকায় তার সরকারি বাসভবনে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত আনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এসব বলেন।

‘সরকারের নাকি ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই’ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। তারা একই ঢোল সব মওসুমে বাজিয়ে যাচ্ছে। আন্দোলন, নির্বাচনে চরমভাবে ব্যার্থ বিএনপি এখন পথহারা পথিকের মতো দিশেহারা। তাদের নেত্রীর মুক্তির জন্য আন্দোলন তো দূরের কথা একটু চাপও তৈরি করতে পারেনি। রাজপথে একটা মিছিল পর্যন্ত করতে পারেনি।’

কোনো অপকর্ম রাজনৈতিক রঙ দিয়ে আড়াল করতে চায় না সরকার উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি দেশে-বিদেশে যেখানেই সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্র করুক না কেন, সে সম্পর্কে সরকার সজাগ।

সাম্প্রতিক নারীর প্রতি অবমাননা এবং সহিংসতার বিষয়ে আওয়ামী লীগ ও সরকার নিজস্ব অবস্থান স্পষ্ট করেছে জানিয়ে

তিনি বলেন, নোয়াখালীর ঘটনাসহ প্রতিটি ঘটনায় অভিযুক্তদের তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। এসব ঘৃণ্য অপরাধীদের কোনো দলীয় পরিচয় থাকতে পারে না, দলীয় পরিচয় তাদের রক্ষার ঢাল হতে পারে না।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আন্দোলনের আগেই সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে, এসব অপরাধ ও ঘৃণ্য অপকর্মের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা সরকারের অবস্থান সবসময়ই স্পষ্ট এবং কঠোর। এসব ঘৃণ্য অপরাধীদের রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না, যারা আশ্রয়-প্রশ্রয় দেবে তাদেরও বিচারের আওতায় আনা হবে।

একটি দল রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টা করছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি এসব ঘটনাকে অন্যদিকে ঘোরানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত। যখনই কোনো ইস্যু পায় তা খড়কুটোর মতো আঁকড়ে ধরে সরকার বিরোধী আন্দোলনের অপপ্রয়াস চালায় বিএনপি। বিএনপি ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর দেশে হত্যা, সন্ত্রাস, নারী নির্যাতন ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের যে অভয়ারণ্য তৈরি করেছিলো তা কি তারা ভুলে গেছে? জাতি তা জানতে চায়।

তিনি বলেন, বিএনপির আমলে আওয়ামী লীগের ২১ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল, নারী নির্যাতন বিশ্ব বিবেককে হতবাক করে দিয়েছিলো। ফাহিমা, মাহিমা, পূর্ণিমাসহ হাজারো নারী ধর্ষণের স্বীকার হয়েছিলো,কেউই বিচার পায়নি। বিচারের বাণী তখন নিভৃতে কেঁদেছে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন সংখ্যালঘু নির্যাতন ৭১’ এর পাক হানাদারদের নির্যাতনকেও হার মানিয়েছিল।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি আজ বড়-বড় কথা বলে, চট্টগ্রামে নিজ দলের নেতা জামাল উদ্দিনকে প্রথমে অপহরণ ও পরে হত্যা করে নিজ দলের লোকেরা, সেই হত্যার বিচার পর্যন্ত তারা করেনি। তাই কিছু বলার আগে নিজের চেহারা আয়নায় দেখুন।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, অপরাধী ও খুনীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া, পুনর্বাসন করা, খুনীদের লালন-পালন এবং খুন, সন্ত্রাস আর ষড়যন্ত্র বিএনপির রাজনৈতিক সংস্কৃতি। বেগম জিয়া অপারেশন ক্লিন হার্টের নামে ৯৮ জন মানুষকে হত্যার বিচার বন্ধে সংসদে ইনডেমনিটি বিল এনে বিচার বন্ধ করেছিলে।

শেখ হাসিনা সরকার যেকোনো অপরাধকে অপরাধ হিসেবেই দেখে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, দুর্নীতি, অনিয়ম এবং যেকোনো অপরাধের মূলোৎপাটনে সরকারের কোনো পিছুটান নেই। প্রতিটি ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার হবে, বিচার হচ্ছে, কোনো অপরাধীই রক্ষা পাবে না।

তিনি বলেন, নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটলে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার ভয়ে অনেকে প্রকাশ করে না, এজন্য অনেক ঘটনাই আড়ালে থেকে যায়। এ ধরণের ঘৃণা অপরাধের বিষয় গোপন না রেখে অপরাধীদের শাস্তি প্রদানের জন্য যেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সময়মতো অবহিত করা হয়।

খবর: বাসস।

Similar Posts

error: Content is protected !!