ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৩ ৯:৪৫ অপরাহ্ণ || শতাব্দীর দৃষ্টিকোণ
খেলাধুলা শিরোনাম

সাকিবের ক্যারিয়ারে ফের মেঘের ছায়া

দেশসেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের মেজাজ হারানোর ঘটনা নতুন নয়। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে মেজাজ হারিয়ে স্টাম্প লাথি মেরে ভেঙে ফের বিতর্কে জড়িয়েছেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার।পরে অনাকাঙ্খিত এ আচরণের জন্য নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি। তবে খেলার মাঠে স্টাম্প উপড়ে ফেলা ও লাথি মারার ঘটনায় সাকিবের শাস্তি এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।

ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব গোপন করায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে গত অক্টোবরে মাঠে ফিরেন সাকিব আল হাসান। আপন ছন্দেই খেলছিলেন তিনি। মেজাজকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় সাকিবের ক্যারিয়ারে ফের মেঘের ছায়া ঘনিয়ে এসেছে।

মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনীর বিপক্ষে ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারের পঞ্চম বলে সাকিবের আউটের আবেদনে আম্পায়ার সাড়া না দিলে মেজাজ হারিয়ে সাকিব নন-স্ট্রাইকিং প্রান্তের স্টাম্পে লাথি মেরে ভেঙে দেন। এরপর তুমুল বৃষ্টি নামলে আম্পায়ার মাহফুজুর রহমান খেলা বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন। তিনি যখন মাঠকর্মীদের কাভার আনার ইশারা দিচ্ছেন, তখন সাকিব আম্পায়ারের দিকে এগিয়ে গিয়ে তিনটি স্টাম্পই তুলে উইকেটের ওপর ছুড়ে মারেন। কেবল তাই নয়, বৃষ্টির সময়ে আবাহনীর ড্রেসিংরুমের দিকে তাকিয়ে সাকিব কিছু বললে ক্ষেপে গিয়ে তেড়ে আসেন আবাহনীর কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন।

একজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারের এ ধরনের আচরণ অপ্রত্যাশিত। নিজের মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার দায় সাকিবকেই বহন করতে হবে। ম্যাচের দুই আম্পায়ার ইমরান পারভেজ ও মাহফুজুর রহমান এবং ম্যাচ রেফারি মোরশেদুল আলমের প্রতিবেদন পাওয়ার পর সাকিবের শাস্তির বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বিসিবি।

সাকিবের আচরণে হতাশা প্রকাশ করে ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিসের (সিসিডিএম) চেয়ারম্যান ও বিসিবি পরিচালক কাজী ইনাম আহমেদ বলেন, আবাহনী-মোহামেডান খেলা মানেই উত্তেজনা। আমরা আজ মাঠে সেরকম উত্তেজনা দেখেছি। তবে আজ যা হয়েছে এমনটা আমরা অতীতে কখনো দেখিনি। একজন আন্তর্জাতিক প্লেয়ার এমনটা করবেন তা কখনো ভাবা যায় না। মাঠে আম্পায়াররা যে সিদ্ধান্ত দেবেন সেটাই ফাইনাল; কিন্তু সাকিব আজ যা করলেন, আমার বিশ্বাস ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে যারা আছেন তারা বিষয়টা দেখবেন। তাদের রিপোর্টের ভিত্তিতে সাকিবের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শাস্তি কী হবে, তার অনেকটাই নির্ভর করছে দুই আম্পায়ার ইমরান পারভেজ ও মাহফুজুর রহমানের রিপোর্টের ভিত্তিতে। আম্পায়াররা যদি আচরণবিধির লেভেল টু লঙ্ঘনের অভিযোগ আনেন, তাহলে শাস্তি হবে দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা অথবা এক ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা ও আর্থিক জরিমানা। আর যদি লেভেল ফোর ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়, তাহলে নিষেধাজ্ঞা হবে কমপক্ষে পাঁচ ম্যাচের।

Similar Posts

error: Content is protected !!